বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে যাতে মূল্যস্ফীতির প্রভাব বিভিন্ন খাতে না পড়ে, সে বিষয়ে সরকার অত্যন্ত সতর্ক রয়েছে। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বিশ্বের প্রায় সব দেশেই জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও বাংলাদেশে সেই তুলনায় মূল্য সমন্বয় খুবই সীমিত করা হয়েছে।
সোমবার (২০ এপ্রিল, ২০২৬) সকালে সিলেটের সরকারি অগ্রগামী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে হাম ও রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় নিয়ে বক্তব্য
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, “পণ্যমূল্য খুব বেশি বাড়ার সুযোগ নেই। কারণ ম্যানুফ্যাকচারিং ইন্ডাস্ট্রিতে জ্বালানি খরচ মোট উৎপাদন খরচের মাত্র ৭ থেকে ৮ শতাংশ। আমাদের খাদ্যদ্রব্য সরাসরি জ্বালানি তেলে তৈরি না হলেও এর দাম উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয়ের ওপর নির্ভর করে। সরকার বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।”
স্বাস্থ্যখাতে বিশেষ গুরুত্ব ও টিকাদান কর্মসূচি
মন্ত্রী জানান, গত দুই বছরে বিভিন্ন কারণে এ বছর হাম ও রুবেলের প্রকোপ কিছুটা বেড়েছে। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তিনি প্রায় শতকোটি টাকা ব্যয়ে নবনির্মিত ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সিলেট জেলা হাসপাতাল ও শহীদ শামসুদ্দিন আহমেদ হাসপাতাল পরিদর্শন করেন।
সিলেট বিভাগের টিকাদান চিত্র:
সিলেট বিভাগে মাসব্যাপী এই কর্মসূচির আওতায় মোট ১৩ লাখ ৫১ হাজার ৯৬৯ জন শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যার জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যান নিম্নরূপ:
সিলেট জেলা: ৪ লাখ ৬৫ হাজার ৩৫৪ জন (সিটি করপোরেশনসহ)।
সুনামগঞ্জ জেলা: ৩ লাখ ৪৪ হাজার ৫৮৮ জন।
হবিগঞ্জ জেলা: ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৯৪১ জন।
মৌলভীবাজার জেলা: ২ লাখ ১০ হাজার ১৮৬ জন।
ইতোমধ্যে বিভাগে হাম ও রুবেলের উপসর্গ নিয়ে ৬ শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সিলেট সিটি করপোরেশনের ৮৪টি কেন্দ্রসহ বিভাগের সব উপজেলায় বিশেষ বুথ স্থাপন করে শিশুদের টিকা দেওয়া হচ্ছে।