নিজস্ব প্রতিবেদক:
সারাদেশের ন্যায় আজ মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল, ২০২৬) থেকে ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে শুরু হয়েছে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। এবারের পরীক্ষায় এই বোর্ডের অধীনে ১ লাখ ৭ হাজার ৬৫১ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করছে। বিশেষ নজর কেড়েছে বোর্ডের অধীনে থাকা ৫৯ জন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন (প্রতিবন্ধী) পরীক্ষার্থী, যাদের জন্য বোর্ড থেকে বিশেষ সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সুবিধা
ময়মনসিংহ বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সৈয়দ আখতারুজ্জামান ফরিদ জানিয়েছেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ৫৯ জন পরীক্ষার্থীর জন্য পরীক্ষার নির্ধারিত সময়ের বাইরেও অতিরিক্ত ৪৫ মিনিট সময় বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, সাধারণ শিক্ষার্থীরা ৩ ঘণ্টা সময় পেলেও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা প্রতি ঘণ্টার বিপরীতে ১৫ মিনিট করে অতিরিক্ত সময় পাবেন। এছাড়া যেসব শিক্ষার্থী শারীরিকভাবে লিখতে অক্ষম, তাদের জন্য নিয়ম অনুযায়ী শ্রুতিলেখক (স্ক্রাইব) ব্যবহারের সুযোগও নিশ্চিত করা হয়েছে।
বোর্ডের সার্বিক প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা
পরীক্ষা সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করতে বোর্ড কর্তৃপক্ষ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে:
ময়মনসিংহ বোর্ডের অধীনে মোট ১৮৮টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রকে সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারিতে আনা হয়েছে।
প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ এবং যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
শেরপুর জেলার চিত্র
এদিকে শেরপুর জেলা থেকেও বিপুলসংখ্যক পরীক্ষার্থী এবারের মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রেজুয়ান জানিয়েছেন, জেলায় মোট ২৯টি কেন্দ্রে ১৯ হাজার ৫৯৩ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দিচ্ছে। এর মধ্যে:
সাধারণ শাখায়: ১৫ হাজার ২৪৩ জন।
দাখিল শাখায়: ৩ হাজার ১৮ জন।
কারিগরি শাখায়: ১ হাজার ১১৮ জন।
উন্মুক্ত শিক্ষা কার্যক্রমে: ৬৪ জন।
শেরপুর জেলা শিক্ষা অফিস জানিয়েছে, বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন এবং এখন পর্যন্ত কোনো সমস্যার সংবাদ পাওয়া যায়নি। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরীক্ষা শুরু হওয়ায় সংশ্লিষ্ট অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
একনজরে ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৬:
মোট পরীক্ষার্থী: ১,০৭,৬৫১ জন।
মোট কেন্দ্র: ১৮৮টি।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পরীক্ষার্থী: ৫৯ জন।
অতিরিক্ত সময়: ৪৫ মিনিট (প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য)।
কর্তৃপক্ষ আশা করছে, গত বছরের তুলনায় এবার আরও সুশৃঙ্খলভাবে এবং কোনো ধরনের গোলযোগ ছাড়াই পরীক্ষা শেষ করা সম্ভব হবে।