হাসপাতালে ডাক্তার-নার্সের অভাব, ক্ষত সেলাই করলেন নিরাপত্তারক্ষী

Date: 2026-04-21
news-banner

চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীর ঘাটতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে—তারই এক উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে ভারতের বিহারের একটি সরকারি হাসপাতালে। রোগীর চাপ সামলাতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তাকর্মীকেই ক্ষত সেলাই করতে হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিহারের পশ্চিম চম্পারণ জেলার বাগাহা উপ-বিভাগীয় হাসপাতালে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীর তীব্র সংকটের কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

ঘটনাটি ঘটে সোমবার (২০ এপ্রিল)। ওইদিন হঠাৎ করেই একাধিক সড়ক দুর্ঘটনায় আহত রোগী হাসপাতালে এসে পৌঁছান। আহতদের মধ্যে ছিলেন পিকআপ ভ্যান চালক ওয়াসিম আখতার ও সুরেন্দ্র পাসি, যাদের বাড়ি উত্তর প্রদেশের জাটাহান ভৈরগঞ্জ বাজার এলাকায়।

আহত ওয়াসিম আখতার জানান, বাগাহা-বেত্তিয়া জাতীয় মহাসড়কের শাস্ত্রী নগর এলাকায় একটি গ্যাস এজেন্সির সামনে তাদের পিকআপ ভ্যানের সঙ্গে একটি টেম্পোর মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে তাদের গাড়িটি উল্টে যায় এবং তারা গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার পর টেম্পো চালক পালিয়ে যায়।

স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের হাসপাতালে নিয়ে গেলেও একই সময়ে আরও কয়েকটি দুর্ঘটনার রোগী সেখানে এসে পৌঁছান। কিন্তু হাসপাতালে তখন ড্রেসার, অপারেশন থিয়েটারের কর্মী, এমনকি পর্যাপ্ত নার্স ও চিকিৎসকও উপস্থিত ছিলেন না। ফলে জরুরি পরিস্থিতি সামাল দিতে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে এক নিরাপত্তারক্ষীকে ক্ষত সেলাইয়ের কাজে সহায়তা করতে হয়।

হাসপাতালের ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট ডা. অশোক কুমার তিওয়ারি জানান, দীর্ঘদিন ধরেই হাসপাতালে জনবল সংকট চলছে। তিনি বলেন, “এখানে এখনও অপারেশন থিয়েটারের সহকারী বা ড্রেসার নিয়োগ দেওয়া হয়নি। জিএনএম কর্মী ও চিকিৎসকেরও ঘাটতি রয়েছে। একসঙ্গে পাঁচজনের বেশি দুর্ঘটনার রোগী আসায় বাধ্য হয়ে নিরাপত্তারক্ষীর সহায়তা নিতে হয়েছে।”

এদিকে, বাগাহা উপ-বিভাগীয় হাসপাতালের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দেখা যায়—একজন নিরাপত্তারক্ষী অপারেশন থিয়েটারের ভেতরে রোগীর ক্ষত সেলাই করছেন। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর রোগীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কারণ নিয়ম অনুযায়ী, অপারেশন থিয়েটারে শুধুমাত্র প্রশিক্ষিত চিকিৎসক ও নার্সদের প্রবেশের অনুমতি রয়েছে।

সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, আহত দুই ব্যক্তি দাবি করেছেন, তাদের ক্ষত একজন নিরাপত্তারক্ষীই সেলাই করেছেন। তাদের মতে, এটি চরম অবহেলার ঘটনা এবং অপ্রশিক্ষিত ব্যক্তির মাধ্যমে চিকিৎসা নেওয়া তাদের জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ছিল।

তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, জরুরি পরিস্থিতিতে একজন রোগীর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হওয়ায় চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে নিরাপত্তারক্ষীর সহায়তা নেওয়া হয়।

এই ঘটনা আবারও স্বাস্থ্যখাতে জনবল সংকট ও ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

Leave Your Comments