পুলিশের ৯৯ শতাংশ সদস্যই সৎ ও দায়িত্বশীল : আইজিপি

Date: 2026-04-21
news-banner

পুলিশের ৯৯ শতাংশ সদস্যই সৎ, নিষ্ঠাবান ও দায়িত্বশীল বলে মন্তব্য করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, মুষ্টিমেয় কিছু সদস্যের অনিয়ম বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের দায় পুরো বাহিনী নেবে না। বাহিনীর ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রাখতে অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি আরও কঠোরভাবে নিশ্চিত করতে হবে।

সোমবার (২০ এপ্রিল) রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি সদর দপ্তরে আয়োজিত ‘ত্রৈমাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা (জানুয়ারি-মার্চ ২০২৬)’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পেশাদারিত্বে আপসহীন হওয়ার নির্দেশ আইজিপি বলেন, "নিজের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পুলিশ বাহিনীকে জনবান্ধব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে। সম্প্রতি দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে গেলেও পুলিশের দৃঢ়তায় তা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। বিশেষ করে একটি সফল জাতীয় নির্বাচন সম্পন্ন করার মাধ্যমে পুলিশ সদস্যরা জনগণের আস্থা ও প্রশংসা কুড়িয়েছেন।"

সিআইডিকে অপরাধ তদন্তের শীর্ষ সংস্থা (অ্যাপেক্স বডি) হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সিআইডির তদন্তের গুণগত মান ও পেশাদারিত্বের ওপর বিচার ব্যবস্থার সাফল্য অনেকাংশেই নির্ভর করে। তাই মামলার তদন্তে গতি আনা এবং সময়মতো নিস্পত্তি নিশ্চিত করতে কর্মকর্তাদের আরও যত্নশীল হতে হবে।

মাদক ও সাইবার অপরাধে ‘জিরো টলারেন্স’ আইজিপি তাঁর বক্তব্যে মাদক এবং সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ডিজিটাল অপরাধের এই যুগে তদন্তকারী কর্মকর্তাদের প্রযুক্তিনির্ভর ও বিজ্ঞানভিত্তিক তদন্তে দক্ষ হতে হবে। জনগণের উচ্চ প্রত্যাশা পূরণে তদন্তের মান বজায় রাখা এবং তদারকি বাড়ানোর জন্য তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।

অতিরিক্ত আইজিপি মোসলেহ উদ্দিনের বক্তব্য অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিআইডি প্রধান, অতিরিক্ত আইজিপি মোসলেহ উদ্দিন আহমদ, বিপিএম-সেবা। তিনি বলেন, "একজনের ভুলের জন্য পুরো বাহিনীর সুনাম ক্ষুণ্ণ হওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা ‘পারবো এবং আমাদের পারতেই হবে’—এই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি।" তিনি দ্রুত অপরাধস্থলে পৌঁছানোর জন্য ‘কুইক রেসপন্স টিম’ গঠন এবং আধুনিক ক্রাইম সিন ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

পুরস্কার ও স্বীকৃতি দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনের শেষে সাহসিকতা ও কৃতিত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ বিভিন্ন ইউনিটের কর্মকর্তাদের হাতে বিশেষ পুরস্কার তুলে দেন আইজিপি। অনুষ্ঠানে সিআইডির সদর দপ্তরসহ জেলা পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরাসরি ও ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন।

Leave Your Comments