খুকৃবির ২য় ভিসি হলেন প্রফেসর আবুল কাশেম।

Date: 2022-11-16
news-banner


 জি, এম, হাসান আল-মাহমুদ; খুলনা প্রতিনিধি::

খুকৃবির ভিসি হলেন প্রফেসর আবুল কাশেম
খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুকৃবি) দ্বিতীয় ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন প্রফেসর ড. আবুল কাশেম চৌধুরী। বুধবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উপসচিব মোছা. রোখসানা বেগমের স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে চার বছরের মেয়াদে তাকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়।

তিনি পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের কর্মরত ছিলেন।


খুকৃবির প্রথম ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে প্রফেসর ড. শহীদুর রহমান খান ২০১৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২২ সালের ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলরের রুটিন দায়িত্ব পালনের জন্য ট্রেজারার প্রফেসর সরোয়ার আকরাম আজিজকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
বর্তমান ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. আবুল কাশেম চৌধুরী ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদ থেকে স্নাতক এবং ১৯৮৮ সালে কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০০১ সালে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে থাইল্যান্ডের ক্যাসেটসার্ট ইউনিভার্সিটি থেকে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

ড. আবুল কাশেম চৌধুরী ২০০৩ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত জাপান ইন্টারন্যাশনাল রিসার্চ সেন্টার ফর এগ্রিকালচারাল সায়েন্স, জাপানের পোস্ট ডক্টরাল ফেলো হিসেবে মার্কার অ্যাসিস্টেড সিলেকশন বিষয় গবেষণা করেন। আন্তর্জাতিক (২৯টি) ও জাতীয় (২৪টি) পর্যায়ে বিভিন্ন জার্নালে তার ৫৩টি বৈজ্ঞানিক গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়াও প্রফেসর ড. আবুল কাশেম চৌধুরী জাপান, যুক্তরাষ্ট্র এবং থাইল্যান্ডের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে তার গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

তিনি ১৯৮৯ সালে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট কর্তৃক পরিচালিত পটুয়াখালী কৃষি কলেজের (বর্তমান পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়)  উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে শিক্ষাগত পেশা শুরু করেন এবং সুদীর্ঘ ৩৪ বছর সুনামের সহিত উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা ও গবেষণায় নিয়োজিত রয়েছেন। এখন পর্যন্ত ৭ জন পিএইচডি ছাত্রের ডির্জাটেশন এবং ৭৫ জন এমএস ছাত্রের থিসিস সুপারভাইস করেন। তিনি USAID, HEQEP, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রদত্ত বিভিন্ন গবেষণ প্রকল্পে প্রজেক্ট ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং সুষ্ঠুভাবে প্রকল্পগুলো সম্পন্ন করেন। সফল কর্মজীবনের অধিকারী তিনি কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগ এবং বায়োটেকনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান, কৃষি অনুষদের ডিন, পোস্ট গ্রাজুয়েট স্টাডিজের ডিন, রিজেন্ট বোর্ডের সদস্য, একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য, ডিন কাউন্সিলের আহবায়ক, হল প্রভোস্ট, প্রক্টর, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গবেষণাগারের প্রধান, রিসার্চ এন্ড ট্রেনিং সেন্টারের পরিচালক এবং শারীরিক শিক্ষা বিভাগের পরিচালকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেন।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী প্রফেসর ড. আবুল কাশেম চৌধুরী পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও কোষাধ্যক্ষ, বঙ্গবন্ধু পরিষদের সহ-সভাপতি ও কোষাধ্যক্ষ, বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন নীল দলের সহ-সভাপতি হিসেবে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।

তার প্রচেষ্টায় ২০০৮ সালে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রথম বারের মতো ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস পালন করা হয় এবং উক্ত শোক দিবস কমিটির আহবায়ক হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় এবং স্বৈরাচার বিরোধী ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে অগ্রণী ভ‚মিক রাখেন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী হওয়ায় তিনি ও তার পরিবার বিভিন্ন সময়ে স্বাধীনতা বিরোধীদের দ্বারা নিগ্রহের শিকার হন। তার বড় ভাই বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী হওয়ায় ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত হন।

প্রফেসর ড. কাশেম চৌধুরী ১৯৬২ সালের ১ অক্টোবর নোয়াখালী জেলার কোম্পানিগঞ্জ উপজেলার চরফকিরা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

Leave Your Comments